June 19, 2024

৩৪৭২ পদে সমন্বিত নিয়োগ, বেছে নিন পছন্দের ব্যাংক

দেশের ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। এসব প্রতিষ্ঠান হলো-সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, কর্মসংস্থান ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। চলতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৪টি ব্যাংকের সব কয়টি না থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যাংক চয়েসের সুবিধার্থে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের পছন্দের ধরন অনুযায়ী ব্যাংক চয়েস ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।
পরিচিতি ও দায়িত্ব: যে ব্যাংকের শাখা সারা দেশে যত বেশি বিস্তৃত, তার পরিচিতি তত বেশি। পরিচিতি বেশি হওয়ায় দায়িত্ব ও কাজের চাপও বেশি। তবে যাঁরা ব্যাংককে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান, তাঁদের পরিচিতি ও দায়িত্ব বেশি এমন ব্যাংক পছন্দক্রমের প্রথম দিকে রাখা উচিত। সে ক্ষেত্রে আপনার পছন্দক্রমের প্রথম দিকে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও কৃষি ব্যাংক রাখতে পারেন।
পদায়ন: শাখার ওপর নির্ভর করে কিছু ব্যাংকের পদায়ন বিভাগ ও বড় শহরে হয়ে থাকে এবং কিছু ব্যাংকের শাখা সব জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় সেখানেও পদায়ন হতে পারে। যাঁরা বিভাগীয় পর্যায়ে বা বড় শহরে থাকতে চান, তাঁদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক পছন্দক্রমের প্রথম দিকে রাখতে পারেন। যাঁরা নিজ জেলায় বা আশপাশে পদায়ন পেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বেশি শাখা আছে এমন ব্যাংক; যেমন-সোনালী, জনতা, অগ্রণী, কৃষি প্রভৃতি ব্যাংক পছন্দক্রমের প্রথম দিকে রাখতে পারেন। বাংলাদেশের ছয়টি বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) কৃষি ব্যাংক এবং বাকি দুটি বিভাগে (রাজশাহী ও রংপুর) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক রয়েছে।

তাই নিজের বিভাগে পদায়ন পেতে এই দুটি ব্যাংক থেকে আপনার বিভাগের সঙ্গে সামঞ্জস্যটি পছন্দক্রমের প্রথমে দিয়ে অন্যটি পরের দিকে দিতে পারেন। সব ব্যাংকেই শাখা ও শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে নিজ জেলায় পদায়নের সুযোগ আছে। তবে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই এক শাখায় তিন-চার বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই।

প্রমোশন: বেসিক ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকে পদসোপান একই রকম (বেসিক ব্যাংকও আগামী দিনে অভিন্ন পদসোপান অনুসরণ করতে পারে)। ব্যাংকগুলোতে অফিসার ক্যাশ/অফিসার>সিনিয়র অফিসার> প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও)>সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও)>অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম)>ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)>জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদগুলোতে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংকে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পদে ব্যাংকার বা অর্থনীতিবিদ থেকে সরকার নিয়োগ দিয়ে থাকে। জিএম, ডিএমডি ও এমডি পদগুলোতে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে। একটি ব্যাংকের প্রমোশন সময়ভেদে ধীর বা দ্রুত হতে পারে। এমনও দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে প্রমোশন হলেও ২০১৫ সাল থেকে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রমোশন কিছুটা ধীর হয়ে গেছে। প্রমোশন বিবেচনায় বর্তমানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক প্রভৃতি পছন্দক্রমের প্রথম দিকে রাখতে পারেন।

লোন সুবিধা ও ইনসেন্টিভস : প্রায় সব ব্যাংকেই নিজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য বেসিক হিসেবে বার্ষিক ইনসেন্টিভস/এক্সগ্রেশিয়া (ব্যাংকভেদে সাত-আটটি পর্যন্ত), হাউস লোন (ব্যাংকভেদে এক কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত), এজিএম থেকে কার মেইনটেন্যান্স ও কার লোন (ব্যাংকভেদে ৪০ লাখ পর্যন্ত), মোটরসাইকেল লোন (ব্যাংকভেদে তিন লাখ পর্যন্ত), কম্পিউটার লোন (ব্যাংকভেদে ৮৫ হাজার পর্যন্ত), পারসোনাল লোন (সব ব্যাংকে নেই) সুবিধা রয়েছে। এটি ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের একটি ইতিবাচক দিক এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনযাপন করার জন্য দারুণ অনুষঙ্গ। ইনসেন্টিভস ও লোন সুবিধার ক্ষেত্রে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংককে পছন্দের প্রথম দিকে রাখতে পারেন।

কর্মপরিবেশ ও কাজের চাপ: কর্মপরিবেশ ও কাজের চাপ নির্ভর করে একটি ব্যাংকের শাখার সংখ্যা, কাজের পরিধি, কর্মকর্তার সংখ্যা ও গ্রাহকের সংখ্যার ওপর। শাখায় গ্রাহক বেশি ও কর্মকর্তা কম হলে কাজের চাপ বেশি এবং বিপরীতভাবে উল্টো। কর্মপরিবেশ নির্ভর করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের শাখা, শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্তৃপক্ষের চিন্তা-ভাবনার ওপর। কর্মপরিবেশ ও কাজের চাপ তুলনামূলক কম পেতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে রূপালী ব্যাংক, বিশেষায়িত ও নতুন ব্যাংক (যেমন- কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ইত্যাদি) পছন্দক্রমের প্রথম দিকে রাখতে পারেন।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: সব ব্যাংকের কর্মকর্তারা (বেসিক ব্যাংক ব্যতীত) জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুসারে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, বিশেষ প্রণোদনা ভাতা, সন্তানদের শিক্ষা সহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, পেনশন সুবিধাসহ সব সরকারি সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর বাইরে ব্যাংক কর্মকর্তারা প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে লাঞ্চ ভাতা, মাঠ পরিদর্শনকালে যাতায়াত ভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রভৃতি পেয়ে থাকেন। যোগদানের পর একজন কর্মকর্তাকে ব্যাংকের নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ৩০ দিন বা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়জুড়ে বনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এ ছাড়া কর্মজীবনে দেশে বা দেশের বাইরে অন্যান্য প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হতে পারে।

অন্যান্য সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যাংকে চাকরি করে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে আকর্ষণীয় বেতন ও আর্থিক প্রণোদনায় সচ্ছল জীবনযাপন করাও সম্ভব। পাশাপাশি চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগতভাবে সেবাগ্রহীতাদের কাছে পরিচিতি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে আর্থিক দায়িত্ব ও কাজের চাপ, সারা দিন হিসাব-নিকাশের সঙ্গে থাকা, আর্থিক বিষয়াদি ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি অনেকের কাছেই জটিল কাজ মনে হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *